গত পরশুদিন (০৭ জুলাই, ২০২৫) প্রথম আলোতে ডঃ আইনুন নিশাত স্যারকে নিয়ে প্রখ্যাত সাংবাদিক, লেখক, কলামিষ্ট আনিসুল হক মিঠুন ভাইয়ের একটি লেখা পড়লাম । সেখান থেকে জানতে পারলাম, বিভিন্ন জগতের সফল ও বিদ্বান মানুষজনকে নিয়ে সাক্ষাৎকারভিত্তিক একটি প্রোগ্রাম চালু করেছে প্রথম আলো যা প্রতিমাসে দুইবার প্রচারিত/প্রকাশিত হবে ১৫ দিন পরপর । সবচাইতে প্রথম প্রোগ্রামে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন আমাদের আইনুন নিশাত স্যার । জেনে খুবই ভালো লাগলো ।
মিঠুন ভাই সম্ভবতঃ একাডেমিক্যালি আমাদের ৯/১০ বছরের সিনিয়র হবেন । তাই, উনারা যখন বুয়েটে পড়তেন তখন হয়তো নিশাত স্যারের শিক্ষকতা জীবনের তুলনামূলক তারুণ্যের সময় চলছিলো । কিন্তু আমরা যখন বুয়েটে পড়তাম নব্বইয়ের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে তখন নিশাত স্যার ছিলেন অনেক সিনিয়র অধ্যাপক । আমরা বুয়েটে ঢোকার আগে এক সময় স্যার ছাত্রকল্যাণ পরিচালক এবং এক সময় বোধহয় বুয়েট ডিবেটিং ক্লাবের মডারেটরও ছিলেন যদিও আমাদের সময় মডারেটার ছিলেন সিভিল ইন্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টেরই নিশাত স্যারের জুনিয়র কলিগ ডঃ সালেক সিরাজ স্যার ।
মিঠুন ভাইরা সিভিল ইন্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন বলে সরাসরি ডঃ জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যার, নিশাত স্যার, বসুনিয়া স্যারদেরকে শ্রেণীশিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন, অনেক কাছে থেকে দেখেছেন ক্লাসরুমে অনেক অনেকবার । আমি ছিলাম মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র । তাই, নিশাত স্যারের সাথে কথা বলার এবং মন্ত্রমুগ্ধের মতো উনার কথা শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছে ডিবেট সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে বেশ ক’বার ।
আর একবার আমি, আমার বন্ধু আর্কিটেক্ট শাহীন আজিজসহ আরও কয়েকজন মিলে “প্রস্তাবিত শিক্ষানীতি ও একুশ শতকের উচ্চশিক্ষা” শিরোনামে অনেকটা ন্যাশনাল লেভেলের একটি সেমিনার আয়োজন করেছিলাম সম্ভবতঃ ৯৭/৯৮ সালে বুয়েটের সিভিল ইন্জিনিয়ারিংয়ের সেমিনার কক্ষে যে সেমিনারে বুয়েটসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, প্রখ্যাত অধ্যাপক এবং বেশ ক’জন সিনিয়র সাংবাদিক, গবেষক ও জাতীয় খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব উপস্হিত ছিলেন ।
সেমিনার আয়োজনের আগে আমরা মাঝে মাঝে নিশাত স্যারের চেম্বারে যেতাম উনার নির্দেশনা ও পরামর্শ নেওয়ার জন্য । নিশাত স্যার সেই সেমিনারটি মটারেটর হিসেবে পরিচালনা করবেন, শুরু থেকে তেমন ধারনা নিয়েই আমরা আগাচ্ছিলাম । কিন্তু হঠাৎ করে একটি ফরেইন ট্রিপে নিশাত স্যার সেসময় দেশের বাহিরে চলে যাওয়াতে পরবর্তীতে মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেছিলেন প্রয়াত ডঃ গোলাম মহিউদ্দিন স্যার ।
আমার জীবনে প্রথম যেদিন নিশাত স্যারের সাথে সামনা-সামনি বেশ কিছুক্ষন কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলাম, সেদিন মন্ত্রমুগ্ধের মতো ভরাট কন্ঠস্বরে স্যারের কাছ থেকে অনেক বিষয়ে জানার পরে আমার কৌতুহল হ’লো এটা জানার জন্য যে, ভদ্রলোক সিভিল ইন্জিনিয়ারিংয়ের প্রোফেসর ; কিন্তু সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, ভূরাজনৈতিক, ফিলোসোফিক্যাল, মনোজাগতিক এত বিভিন্ন রকমের মাল্টিডাইমেনশনাল বিষয়ে তাঁর এতো জানাশুনার গভীরতা এলো কিভাবে?
আমি আর কৌতুহল নিবৃত্ত করতে পারলাম না । কোন সংকোচ না করে স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম, “স্যার এতো এতো ভিন্নধর্মী বিষয় নিয়ে আপনার পড়াশুনা করার অভ্যাস কি ছোটবেলা থেকেই? ” । কারন, সেসময় পড়াশুনা করা ছাড়া বর্তমানের মতো এত সহজে গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, শতশত টেলিভিশন চ্যানেল থেকে চাইলেই ইনফরমেশন পাওয়া যেতো না । তখন স্যার বললেন যে, উনার শৈশবকাল থেকেই তাঁদের বাসায় সকল দৈনিক/সাপ্তাহিক/মাসিক পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যা আসতো এবং তখন থেকেই তাঁর পড়াশুনার অভ্যাস গড়ে উঠে ।
এটা শোনার পরে আমার মনে তৈরী হ’লো পরবর্তী কৌতুহল ; কারন, সাধারণ মানের কোন মানুষের বাসায় তো সকল পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যা আসতো না বা এখনো আসে না ! এবারও কৌতূহল নিবৃত্ত না করে আমি স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম, ” স্যার আপনার বাবা/মা কি সাংবাদিকতার সাথে জড়িত ছিলেন ? ” । স্যার বললেন, ” টেলিভিশনে/রেডিওতে কখনো আইন বিষয়ক একটি অনুষ্ঠান শুনেছো/দেখেছো যেখানে একজন বুড়ো মানুষ সকল আইন বিষয়ক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় দবির আর সাবেত নামের দুইজন ব্যক্তির নাম বলে আলোচনা শুরু করেন? ” । আমি বললাম, “জ্বী স্যার” । স্যার তখন মৃদু হেসে বললেন, উনি আমার বাবা । তখন আমার বুঝতে বাকি রইলো না যে, উনি অর্থাৎ স্যারের বাবা গাজী শামছুর রাহমান যেহেতু একজন প্রাক্তন জাজ ও একজন অত্যন্ত সিনিয়র আইনজ্ঞ হিসেবে কাজ করা মানুষ, লেখক, কলামিস্ট, গবেষক এবং রেডিও-টেলিভিশনের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে অতি পরিচিত একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, তাই উনার বাসায় সকল পত্রিকার সৌজন্য সংখ্যা আসাটা খুবই স্বাভাবিক ।
আরেকবার কি একটা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় স্যার বলেছিলেন যে, উনি যখন গাড়িতে মুভ করেন, তখন সবসময় ড্রাইভারের পাশের সীটে বসেন । এটার শানেনুজুল ব্যাখা করার সময় স্যার বললেন, অনেক আগে উনি ওয়েস্টার্ন কোন একটি দেশে (এই মুহুর্তে আমার দেশের নাম মনে নাই) গিয়েছিলেন একটি সেমিনার টাইপের প্রোগ্রামে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে । স্যার সেমিনার রুমে গিয়ে সামনের সারিতে বসে আছেন, কিছুক্ষণ পরে অনেকটা আলো-আঁধারি পরিবেশে তাঁর পাশের সীটে বসে থাকা লোকটার দিকে তাকিয়ে স্যারের মনে হ’লো যে, লোকটা তো বোধহয় উনার পরিচিত । কিছুক্ষন পরে উনি বুঝতে পারলেন, আরে এটাই তো সেই লোক যাকে সেমিনারের আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে স্যারের শিডিউল মেইনটেইন করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য যে গাড়ি দেওয়া হয়েছে সেই গাড়ির ড্রাইভার ।
তখন স্যার উপলব্ধি করলেন যে, এখানে গাড়ি বা ট্যাক্সি চালানো একজন প্রোফেশনাল ড্রাইভার সেমিনার কক্ষের সামনের সারিতে গিয়ে বসতে তো নিজেও কোন সংকোচ বোধ করছে না কিংবা অন্যরাও তাকে অসম্মান জানিয়ে কিছু বলছে না । ঐবার দেশে আসার পর থেকে উনি সবসময় গাড়িতে ড্রাইভারের পাশের সীটে বসতেন । জানি না, স্যার এখনো গাড়িতে মুভ করার সময় ড্রাইভারের পাশের সীটে বসেন কি-না যেহেতু স্যার এখন আগের চাইতে অনেক বেশী বয়্যোজেষ্ঠ মানুষ !
এখানে একটি বিষয় আমার অবজারভেশন বা অভিজ্ঞতা থেকে বলে রাখি । যদিও সামরিক বাহিনীর জীপে কিংবা একসময় সরকারি কিছু জীপে অফিসার সাহেব ড্রাইভারের পাশের সীটে বসতেন, কিন্তু সেটা অন্য কারনে অর্থাৎ সেগুলিতে পেছনের সীটগুলি কমফোর্টেবল ছিলো না এবং সামনের সীটটাকেই গঠনগত কারনে ইম্পর্ট্যান্ট বলে বিবেচনা করা হ’তো ।
বিভিন্ন সময় ডিবেট কম্পিটিশনের আগে স্যারকে যে কতবার উনার চেম্বারে গিয়ে বিরক্ত করেছি আমাদের বিতর্কের টপিকের উপর উনার কাছ থেকে তথ্য, উপাত্ত ও তত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণাত্মক জ্ঞান নেওয়ার জন্য, তার ইয়ত্তা নেই ।
আরও অনেক খুবই গুরুত্বপূর্ণ অথচ চরম বাস্তবধর্মী কিছু বিষয় স্যারের কাছ থেকে বুয়েট লাইফের সেই নব্বইয়ের দশকের শেষার্ধেই আমি জেনেছি যা পরে আমি মিলিয়ে দেখেছি যে স্যারের দেওয়া তথ্য, উপাত্ত ও বিশ্লেষণগুলি কতোটা বাস্তবসম্মত ছিলো ।
সেগুলো সব এখানে সময়ের অভাবে বলতে পারছি না । আর তাছাড়া আজকালকার অসহিষ্ণু অস্হির ডিজিটাল এনভায়রনমেন্টে কোন বিষয় গভীরভাবে অনুধাবন, প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ বা চিন্তা না করেই একজন বিদ্বান ও সম্মানিত মানুষকেও কখনো কখনো রাজনৈতিক/ভূরাজনৈতিক মতাদর্শ হুবহু না মিললে, কখনো ধর্মীয় ইস্যুর ব্যাখ্যামূলক মতামত হুবহু ঐকতানিক না হ’লে (ইসলাম ধর্মের স্কলারদের মধ্যে এবং বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যেও কিন্তু বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিন্নভিন্ন ব্যাখ্যা থাকতে পারে) চটজলদি তাকে জাজ করে মানুষজন কোন একটা অসম্মানজনক নেগেটিভ কমেন্ট করে বসে যেটা আমি ক’মাস আগে আকষ্মিক বন্যার সময় পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিভিন্ন মিডিয়া সাক্ষাৎকারে নিশাত স্যারের প্রদান করা তথ্য, উপাত্ত ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে কিছু অশিক্ষিত/অর্ধশিক্ষিত অর্বাচীন টাইপের মানুষকে করতে দেখেছি যারা হয়তো এসএসসি বা এইচএসসি পাসও ঠিকমতো করে নাই অথবা তৃতীয় বিভাগে পাস করে কোন সাধারন ডিগ্রী কলেজে পড়ছে যার হয়তো ঐ বিষয়ে কোন জ্ঞানই নাই এবং তারা ঠিকমতো হয়তো বুঝতেও চেষ্টা করে নাই যে, স্যার আসলে কি বলতে চাচ্ছেন ।
তবে শেষে একটা অনুযোগের মধ্য দিয়ে আমার লেখা শেষ করবো । ১৩-তম (১৯৯৫-৯৭) জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্বে ১৯৯৭ সালের শুরুর দিকে আমাদের দল অর্থাৎ ডঃ এম এ রশীদ হল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো ; আমি ওই দলের দলনেতা ছিলাম এবং বিচারকদের রায়ে ফাইনাল রাউন্ডের কম্পিটিশনে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয়েছিলাম ।
লোকমুখে জেনেছিলাম যে, বুয়েটের কোন স্টুডেন্ট/টীম কোন এক্সট্রাকারিকুলার একটিভিটিজের কম্পিটিশনে জাতীয় পর্যায়ের কোন প্রতিযোগিতায় ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হ’লে বুয়েট তাকে/তাদেরকে “বুয়েট ব্লুজ” নামক একটি সম্মাননা দেয় । আমি/আমরা তখন তৎকালীন ডিএসডব্লিউ ডঃ শামীমুজ্জামান বসুনিয়া স্যার এবং এসিস্ট্যান্ট ডিএসডব্লিউ ডঃ মাগলুব-আল-নূর স্যারের সাথে আলাপ করলাম বিষয়টি নিয়ে ।
উনারা বললেন, যেহেতু ডিবেট কম্পিটিশন সংক্রান্ত বিষয়, আর এ বিষয়ে নিশাত স্যার বুয়েটের সবচাইতে প্রাসঙ্গিক ও বিজ্ঞ মানুষ ; তোমরা বিষয়টা নিয়ে উনার সাথে একটু আলাপ করো । কয়েকদিন ডিপার্টমেন্টে গিয়েছিলাম স্যারের চেম্বারে, কিন্তু পাই নাই যেহেতু উনি খুবই ব্যস্ত মানুষ ; একেক সময় একেক জায়গায় থাকেন । তো কোন এক ছুটির দিনে অনেকটা ভয়ে-ভয়ে রশীদ হলের টেলিফোন থেকে স্যারের বাসায় ফোন করলাম । স্যার ফোন ধরতেই বললাম, ” কয়েকদিন আপনার চেম্বারে গিয়ে আপনাকে পাই নাই ; সেজন্য একটা ব্যাপারে আলোচনার জন্য ফোন করেছি যদি আপনি বেয়াদবি না নেন স্যার ” । স্যার বললেন, ” ঠিক আছে, কি বলবে বলো ” ।
আমি দুরুদুরু বুকে বিষয়টি স্যারের কানে তুললাম । উনি বললেন, ” বুয়েট-ব্লুজ সংক্রান্ত নীতিমালায় এক্সাক্টলি কি লেখা আছে তা তো আমার একটু রি-চেক করতে হবে । এটার সাথে এক্সট্রাকারিকুলার একটিভিটিজে ন্যাশনাল লেভেল কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি সদাচরন এবং একাডেমিক রেজাল্টের কম্বিনেশনের কোন সম্পর্ক আছে কি-না সেটাও চেক করতে হবে ” ।
সদাচরণ নিয়ে আমার কোন শংকা ছিলো না ; কারন, বুয়েট ক্যাম্পাসে আমি কোন শিক্ষকের সাথে বেয়াদবিও করি নাই, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন কাজে জড়িত হয়ে কোনদিন অভিযুক্ত হওয়া তো দূরে থাক, নোটিশও পাই নাই । আমি ভয় পেয়ে গেলাম, একাডেমিক রেজাল্টের বিষয়টি নিয়ে । কারন, বুয়েটের প্রথমদিকে আমার সিজিপিএ মোটামুটি ভালো থাকলেও শেষের দিকে এসে তা অনেকটাই নেমে গিয়েছিলো ।
একবার মনে করলাম যে, স্যারকে বলি, “একাডেমিক রেজাল্টের জন্য তো বিভিন্ন পর্যায়ে একডেমিক এ্যাওয়ার্ডের, বৃত্তির প্রথা/প্রোগ্রাম চালু আছে ; কিন্তুু এক্সট্রাকারিকুলার কম্পিটিশনে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশীপের জন্য যে বুয়েট-ব্লুজ সম্মাননা, তার সাথে একাডেমিক রেজাল্ট সম্পর্কিত হবে কেন, গুরুতর শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোন কাজ বা অসদাচরণ সম্পর্কযুক্ত হ’লেও হতে পারে ” ।
কিন্তু নিশাত স্যারকে, স্যারের প্রজ্ঞা, ভরাট কন্ঠস্বর আর ব্যক্তিত্বকে এতোটাই ভয় পেতাম এবং সমীহ করতাম যে, স্যারের সাথে এই বিষয়ে আর্গুমেন্ট করার মতো সৎসাহস অর্জন করতে পারলাম না । আরো সহজভাবে বলতে গেলে বলতে হয় যে, মাথার ভেতরে জন্ম নেওয়া ওই আর্গুমেন্ট ভয়ে গলা দিয়ে আর বেরুলোই না ।
এরপর বুয়েট লাইফের শেষের দিকে বিভিন্ন কারনে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, আমার দলের অন্য বিতার্কিকরা আমেরিকা চলে গেলো, আমিও বুয়েট থেকে বেরিয়ে কর্মজীবনে, সংসারজীবনে প্রবেশ করলাম, সন্তানের পিতা হলাম, ক’দিন আগে নিজেও বয়সের মাপকাঠিতে অর্ধশতাব্দীতে পদার্পন করলাম ; কিন্তু বুয়েট-ব্লুজ সম্মাননাটা আর পাওয়া হ’লো না !
এখন তো আর ছোট্টকালের মতো আবদার করবার বয়সও নেই, বয়সের ভারে যথেষ্ঠ বড় হয়ে গেছি, ক’দিন বাদে বুড়ো হয়ে যাবো । নির্মলেন্দু গুণের ভাষায় বলতে হয়, “জন্মের প্রয়োজনে ছোট হয়েছিলাম, এখন মৃত্যুর প্রয়োজনে বড় হচ্ছি” ।
তবে মোদ্দা কথা হ’লো, ডঃ আইনুন নিশাত স্যার বুয়েটিয়ানদের কাছে, আমাদের মত বিভিন্ন প্রজন্মের বিতার্কিকদের কাছে, বাংলাদেশের প্রকৌশলী সমাজের কাছে রীতিমতো একটি মডেল । মহান সৃষ্টিকর্তা উনাকে সুস্হভাবে আরও অনেকদিন আমাদের মাঝে বাঁচিয়ে রাখুক, সেটাই কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি ।
পসঙ্গত বলে রাখি, কানাডার টরেন্টোতে বসবাসরত নিশাত স্যারের মেয়ে এবং জামাতা দুইজনই বুয়েটের আমার ব্যাচমেট বন্ধু । আমি যখন ২০১৫ সালের শেষের দিকে টরেন্টোতে গিয়েছিলাম, তখন তাদের সাথে আমার সর্বশেষ দেখা হয়েছিলো । তারা দুজনেই সেখানে তাদের প্রোফেশনাল ক্যারিয়ারে সফলতার সাথে কাজ করছে ।
আনোয়ার পারভেজ শেফীন
চেয়ারম্যান, পাওয়ারব্রীজ গ্রুপ

