Blog

Episode 3:

 

‘টাকায় টাকা আনে’- এই প্রবাদটির সাথে বিজনেসের রয়েছে যথেষ্ট সাদৃশ্য । যে কোনো ব্যবসা করতে গেলেই আপনার একটি সিগনিফিকেন্ট এমাউন্টের এস্টাবলিশমেন্ট এক্সপেন্সেস এবং আরও একটি পরিমান ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল লাগবে । এইক্ষত্রে বলে রাখি, আইটি-বেজড্ বিজনেস বা ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে এই ইনভেস্টমেন্টের পরিমান কম লাগতে পারে । তবে যে কোনো ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেসের ক্ষেত্রে এই খরচের পরিমানটা সবচেয়ে বেশি লাগবে । এমনকি আপনি যদি কোনো কিছুর শোরুম, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, কনসালট্যান্সি ফার্ম, কনস্ট্রাকশন ফার্ম …..  ইত্যাদি করতে চান তবুও কিন্তু প্রাথমিকভাবে আপনার একটা অফিস সেটআপ লাগবে মিনিমাম কিছু ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, ফার্নিচার, অফিস ইকুইপমেন্টসহ ; সেই সাথে লাগবে অফিস বা শোরুম ভাড়া নেওয়ার জন্য এ্যাডভান্স বা সিকিউরিটি ডিপোজিট । স্বাভাবিকভাবেই বুঝতে পারছেন, ম্যানুফ্যাকচারিং বিজনেসের ক্ষেত্রে অফিসের পাশাপাশি একটা ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্টের সেটআপও লাগবে ।

 

এরপর ব্যবসার ধরন অনুযায়ী মিনিমাম কয়েকজন এমপ্লয়ীকে নিয়োগ দিতে হবে তা পরিচালনা করার জন্য । আপনি বিজনেসে সাকসেসফুল হতে পারেন আর না-ই পারেন, এমপ্লয়ীদেরকে নিয়মিত আপনার বেতন-ভাতা দিতে হবে, সেই সাথে প্রতিমাসে পরিশোধ করতে হবে অফিস/দোকান ভাড়া, ইউটিলিটি বিলসহ আনুষঙ্গিক আরো শত রকমের ছোট-বড় খরচের বিল । তারপর আছে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল যা দরকার পড়বে কোনো অর্ডার পেলে তা এক্সিকিউট করার জন্য ; আর দোকান বা শোরুম হ’লে পন্য কিনে সেখানে ডিসপ্লে করার জন্য বা স্টক করার জন্য ।

 

এই বিষয়গুলো বোঝার মতো যথেষ্ট ক্ষমতা যারা এই পোস্টটি পড়ছেন তাদের সবারই আছে । তবুও আমি উল্লেখ করলাম বিষয়টিকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য যে, আইটি বিজনেস ছাড়া অন্য যে কোন ব্যবসা করতে গেলে একটা নির্দিষ্ট পরিমান সিগনিফিকেন্ট এ্যামাউন্টের বিনিয়োগ লাগবেই ; এর কোনো বিকল্প নেই ।

 

তাই আপনাকে এস্টাবলিশমেন্ট এক্সপেন্সেস, ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল মিলিয়ে বিজনেসের একটা ব্রেকইভেন পেরিয়ড ধরে নিয়ে সেই পর্যন্ত অপারেশনাল এক্সপেন্সেস বিবেচনায় রেখে একেবারে সুনির্দিষ্ট হিসেব দাঁড় করাতে না পারলেও আনুমানিক মোটামুটি হিসেবের উপর ভিত্তি করে একটা ইনভেস্টমেন্ট ফোরকাস্ট করে তার জন্য ফান্ড জোগাড় করতে হবে । যদি আপনার বা আপনার পরিবারের সেই পরিমান সঞ্চিত পুঁজি থাকে, তবে তো ভালো ; অন্যথায় তা কীভাবে জোগাড় হবে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় চিন্তাভাবনা ও ব্যবস্হা করে তারপর আপনাকে মাঠে নামতে হবে । ব্যক্তি পর্যায়ে কারো নিকট থেকে খুব সহজে ঐ পরিমান টাকা ধার নেওয়ার সুযোগ যদি আপনার থাকে, তাহলে তো আপনি সৌভাগ্যবান ; অন্যথায় ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হবে ।

 

তাহলে এবার চলে আসি ব্যাংকের কথায় । মেধাবী তরুন প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হবার জন্য উৎসাহিত করবার আহ্বান জানিয়ে চতুর্দিকে বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বিজ্ঞজনদের গগনবিদারী বক্তৃতা শুনে কিন্তু তুষারশুভ্র হালকা মেঘের মতো আকাশে উড়বেন না প্লিজ । কারন, ব্যাংক থেকে লোন নিতে গেলেই আপনি টের পাবেন, কতো ধানে কতো চাল ।

 

আপনি বুয়েটপাস প্রকৌশলীই হউন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ পাস বিজনেস গ্র্যাজুয়েটই হউন আর হার্ভার্ড/এমআইটি/অক্সফোর্ড/কেমব্রিজ গ্র্যাজুয়েটই হউন না কেন, ব্যাংক আপনাকে লোন দেওয়ার ক্ষেত্রে ওগুলোর কিছুই বিবেচনায় নিবে না মুখে মুখে তারা যতো মিষ্টি কথাই বলুক, আর আপনাকে যতোই চা-কফিই খাওয়াক না কেন ।

 

লোন দেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ব্যাংকের দৃষ্টি থাকবে আপনার কোল্যাটারাল তথা মূল্যবান সম্পদ মর্টগেজ করতে পারার সক্ষমতার উপর । আছে কি আপনার মূল্যবান জমি, ফ্ল্যাট কিংবা বাড়ি যা কোল্যাটারাল হিসেবে ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ করতে পারবেন ? থাকলে তো এ যাত্রায় বেঁচেই গেলেন । আর না থাকলে তবে ? কবি এখানেই নিরব  ।

 

কাজেই, ‘ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’। আগে থেকে এইসব বিজনেস-কস্ট এনালাইসিস করে তার জন্য যথাযথ ফান্ডিংয়ের প্রস্তুতি নিয়ে অতঃপর মাঠে নামতে হবে ।

 

চলবে ………

 

আনোয়ার পারভেজ শেফীন

চেয়ারম্যান, পাওয়ারব্রীজ গ্রুপ

 

বি. দ্র. : আমার লেখা কথাগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত যা আমার নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ এবং আমার আশেপাশের মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া । এর ব্যতিক্রমধর্মী বা সম্পূর্ন বিপরীতধর্মী অভিজ্ঞতা অনেকের থাকতে পারে । আর তাছাড়া পরিবেশ, পরিস্হিতি, ভাগ্য, অঞ্চলভেদে ব্যবসার ধরন, খুঁটির জোর ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামকের ভিন্নধর্মী প্রভাবে একেকজনের অভিজ্ঞতা একেক রকম হতেই পারে ; তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই ।

 

#Entrepreneurship_Episode_byAnwar_Pervez_Shefin_উদ্যোক্তা_Chairman_Powerbreeze