Blog

Episode 5:

 

আশাবাদী থাকবেন, কিন্তু অতিরিক্ত প্রত্যাশা করবেন না । কারন, ইনিসিয়াল বিজনেস সেটআপ এক্সপেন্সেস আর শত রকমের বিজনেস ওভারহেড সামলিয়ে মূল ব্যবসায় প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে আপনার প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সামাজিক ও লজিস্টিক পর্যায়েও পদে-পদে আপনার সামনে আসবে নানামুখী চ্যালেন্জ ।

 

যেমন, যে সকল জায়গা থেকে আপনার লাইসেন্স, এনওসি, সার্টিফিকেশন, এপ্রুভাল লাগবে, সেই সকল জায়গায় আপনার চাচাশ্বশুর/মামাশ্বশুর/খালুশ্বশুর/ফুফাশ্বশুররা বসে আছে আপনার দ্বারা বিভিন্নভাবে আপ্যায়িত হওয়ার জন্য । তাদেরকে যথাযথ আপ্যায়ন না করলে আপনি কিছুতেই লাইসেন্স/ছাড়পত্র হাতে পাবেন না ; কারন, তাদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন ও শর্তাবলীর চেকলিস্ট সেভাবেই তারা বানিয়ে রেখেছে যাতে তাদেরকে চাহিদামাফিক আপ্যায়ন না করে আপনি ঐ শর্তাবলী কিছুতেই পূরন করতে পারেন । এগুলি আবার বছর বছর নবায়নও করতে হয় তাদেরকে যথাযথ আদর-সমাদর করে । কোথাও আপনার ঘনিষ্ঠজন থাকলে আপনি সেখানে কিছুটা ছাড় পেতে পারেন হয়ত, কিন্তু সব জায়গাতেই তো আর আপনার ঘনিষ্ঠ পরিচিতজন পাবেন না ।

 

ধরুন, আপনি একটা রেস্টুরেন্ট ওপেন করেছেন মাত্র কয়েকদিন হ’লো ; আপনি এখনো পুরোপুরি গুছিয়েই উঠতে পারেন নাই, এমনকি প্র্যাত্যাহিক/মাসিক খরচ চালাতেই রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন । বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের লোকজন এরই মধ্যে আপনাকে ব্রিদিং পিরিয়ড না দিয়েই হামলা চালাবে আপনার রেস্টুরেন্টে আপনাকে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন রকম জরিমানা করার জন্য, সোজা হয়ে দাঁড়ানোর আগেই আপনার ঘাড় মটকে দেবার জন্য ।

 

আর তাছাড়া আশেপাশের মাস্তান, তথাকথিত নেতা/পাতিনেতা/কর্মী নামধারী চাঁদাবাজ তো আছেই বিভিন্ন দিবস, জনসভা, পথসভা আর অনুষ্ঠানের অজুহাতে তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে আপনার সামনে হাজির হতে । এইগুলো আপনাকে ঠান্ডা মাথায় বিচক্ষণতার সাথে বিভিন্ন টেকনিক করে মোকাবিলা করতে হবে । যত দিন যাবে, ততই এই সমস্যাগুলো বাড়তে থাকবে ; তবে দিনে দিনে এই উৎপাতগুলি মোকাবিলার জন্য আপনি হয়ত পরিপক্ক হয়ে উঠবেন, সক্ষম হয়ে উঠবেন ।

 

যদি আপনার ব্যবসার পরিধি বাড়তে থাকে, তাহলে আপনার আরেক ধরনের চ্যালেন্জ বাড়তে থাকবে । আর তা হ’লো, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক/সাংস্কৃতিক/ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের ব্যানারে সারা বছরব্যাপী ধারাবাহিকভাবে একের পর এক চলতে থাকা প্রোগ্রামে স্পন্সরশীপের রিকুয়েষ্ট । তাদের রিকুয়েষ্ট রক্ষা করতে না পারলে আপনি একজন অসামাজিক মানুষ হিসেবে তাদের কাছে বিবেচিত হবেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ সমাজে আপনার পরিচিতজনদের কাছে বলে বেড়াবে যে, আপনার মন এখনো বড় হয় নাই অর্থাৎ আপনি ছোটোলোক । তারা কিন্তু এটা মোটেও বিবেচনায় নিবে না যে, আপনি পারিপার্শ্বিক চ্যালেন্জ মোকাবিলা করে ব্রেকইভেনে আসতে পেরেছেন কি-না কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানের এমপ্লয়ীদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য শত রকমের ওভারহেড চালানোর মতো রেভিনিউ আপনি বিজনেস থেকে উপার্জন করতে পারছেন কি-না, এমনকি নিজের সংসার খরচও ঠিকমতো চালাতে পারছেন কি-না ।

 

কেউ কেউ আবার বিভিন্ন লোকজনকে চাকরি দেওয়ার জন্য আপনার কাছে রেফার করবে এটা বিবেচনা না করে যে, আদৌ ঐ ধরনের কোনো লোক আপনার প্রতিষ্ঠানে ঐ সময় দরকার আছে কি নাই । অনেকদিন আগে আমার ঘনিষ্ঠ একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা আমার কাছে একজনকে পাঠিয়েছিল চাকরির জন্য । আমি উনাকে বিনয়ের সাথে বললাম যে, ঐ ধরনের কোনো লোক আমার প্রতিষ্ঠানে তখন প্রয়োজন নাই । এটা শুনে তিনি আমাকে বেশ কিছু কটূ কথা বলেছিলেন এবং শুনিয়েছিলেন যে, তিনি এরকম অনেক লোকের চাকরি দিয়ে উপকার করেছেন । তাৎক্ষণিকভাবে রাগ সামলাতে না পেরে আমি উনাকে বলেছিলাম যে, আপনি যদি আপনার ক্ষমতাবলে ঐ লোকটিকে আপনার দপ্তরে চাকরি দিতে পারেন, তবে আপনার কাজ ঐ চাকরি দেওয়া পর্যন্তই, চাকরি দেবার পর তার আজীবন বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি দেবে সরকার জনগনের কাছ থেকে আদায় করা ট্যাক্সের টাকা দিয়ে যেমনটি আপনাকে দিচ্ছে, সেইটা নিয়ে আপনার কোনো দুঃশ্চিন্তা করতে হবে না । আর আমার ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানে ঐ অপ্রয়োজনীয় লোকটিকে চাকরি দিলে তার বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাদি দেওয়ার দায়িত্ব আমার উপরেই বর্তাবে, অন্য কেউ সেই দায়িত্ব বহন করবে না । এটা শুনে আত্নমর্যাদায় আঘাত লাগাতে বেচারা আর আমার সাথে কথাই বলেন না ।

 

আপনি যদি এইসকল পারিপার্শ্বিক সামাজিক ইস্যুগুলো থেকে তৈরি হওয়া মনস্তাত্ত্বিক চাপকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাহলে আপনার সময়, ধৈর্য সবকিছুর অপচয় হবে । মনে রাখবেন, আপনার সমালোচনা করার লোক চারপাশে অনেক পাবেন, কিন্তু আপনাকে সত্যিকার অর্থে বিপদে সহযোগিতা করার মানুষ খুব একটা খুঁজে পাবেন না চারদিকে ।

 

তাই, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে …..  ‘

 

কবির এই কথাটি মনের মধ্যে গেঁথে নিয়ে সামনের দিকে আগাতে থাকবেন । কারন, আপনার আশেপাশের মানুষ কে কি ভাবলো তা নিয়ে গবেষনা করার জন্য আর তাদের সমালোচনার মুখ বন্ধ করতে গেলে আপনার কি করা উচিত সে বিষয়ে ভাববার পেছনে সময় যত কম দিবেন, ততই আপনার জন্য মঙ্গল, আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও এমপ্লয়ীদের জন্যও মঙ্গল, এমনকি সমাজ, দেশ ও অর্থনীতির জন্যও মঙ্গল ।

 

চলবে …..

 

আনোয়ার পারভেজ শেফীন

চেয়ারম্যান, পাওয়ারব্রীজ গ্রুপ

 

বি. দ্র.: আমার লেখা কথাগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত যা আমার নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ এবং আমার আশেপাশের মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে নেয়া । এর ব্যতিক্রমধর্মী বা সম্পূর্ন বিপরীতধর্মী অভিজ্ঞতা অনেকের থাকতে পারে । আর তাছাড়া পরিবেশ, পরিস্হিতি, ভাগ্য, অঞ্চলভেদে ব্যবসার ধরন, খুঁটির জোর ইত্যাদি বিভিন্ন নিয়ামকের ভিন্নধর্মী প্রভাবে একেকজনের অভিজ্ঞতা একেক রকম হতেই পারে ; তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই ।

 

#Entrepreneurshup_উদ্যোক্তা_উদ্যোগ_New_Business_Bangladesh_Anwar_Pervez_Shefin_Powerbreeze