মানুষ জন্মগতভাবেই ঈর্ষাপরায়ণ
ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘Man is by born jealous’ অর্থাৎ মানুষ জন্মগতভাবেই ঈর্ষাপরায়ণ । এই ঈর্ষা কেবল প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রুর প্রতিই থাকে না, বরং তা বন্ধুদের মধ্যে থাকে পরস্পরের প্রতি; প্রতিবেশী, সহকর্মী, সহপাঠী, শুভাকাঙ্ক্ষী এমনকি পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও পরস্পরের প্রতি থাকে ।
কিছু মানুষ আছে যারা ঈর্ষা নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে যার প্রতি সে ঈর্ষাপরায়ণ তার অনেক বড় রকমের ক্ষতি করতেও কুন্ঠাবোধ করে না । এরকম কিছু কিছু ঘটনা ভাইরাল হয়, কিছু কিছু ঘটনা লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায় ।
কিছু মানুষ আছে যারা বড় কোনো ক্ষতি করার দিকে না আগালেও ঈর্ষা নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে এমন বাহ্যিক ও মনস্তাত্ত্বিক আচরন প্রদর্শন করা শুরু করে যার মধ্য দিয়ে তাদের ঈর্ষাপরায়ণতা প্রকটভাবে ফুটে উঠে যা তারা ঢেকে রাখার স্মার্ট কৌশলও রপ্ত করতে পারে না ।
কিছু মানুষ আছে যারা ভিতরে ভিতরে কারও প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ হলেও উপরে উপরে তা বুঝতে দেয় না, তারা খানিকটা স্মার্ট । মেকি অভিনয় করে হলেও তার মনের মধ্যে উঁকি দেওয়া ঈর্ষাপরায়ণতা ঢেকে রেখে ঠোঁটে প্লাস্টিক হাসির এক্সপ্রেশন দিয়ে স্বাভাবিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করে ।
আর কিছু মানুষ আছে যারা অনেক বেশি বাস্তববাদী ও আত্মনিয়ন্ত্রিত । তাদের মনে কারও প্রতি প্রকৃতিগতভাবে ঈর্ষার জন্ম নিলেও তারা যুক্তিগ্রাহ্য উপলব্ধির মাধ্যমে মনকে শান্ত করার চেষ্টা করে এবং নিজেকে নিজে বুঝ দেওয়ার চেষ্টা করে এই ভেবে যে, যার প্রতি তার মনে ঈর্ষার জন্ম হয়েছে সে হয়তো শিক্ষাগত, মেধাগত, পেশাগত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ডের দিক থেকে তার চাইতে প্রাগ্রসর অবস্থায় দীর্ঘকাল আগে থেকেই ছিল কিংবা না থাকলেও ভাগ্য সুপ্রসন্ন হওয়ায় অথবা অধ্যাবসায়ের কারনে কিংবা অন্তর্নিহিত/সহজাত কোনো গুণাবলীর কারনে পারিপার্শ্বিক পরিমন্ডলে কোনো অবস্থান তৈরি করেছে ; তাই এতে ঈর্ষান্বিত হওয়ার কিছু নাই, তারা বরং নিজেদের যা আছে তা নিয়েই তুষ্ট থাকার চেষ্টা করে । বাস্তব অর্থে এভাবে নিজেকে তুষ্ট রাখা খুবই কঠিন, কারন এই অভিব্যক্তির চূড়ান্ত চর্চা করলে তো পৃথিবীতে কোনো অশান্তিই থাকত না । তবে অনেকে চেষ্টা করেন যতটা সম্ভব এই ধরনের আত্ন-উপলব্ধির মাধ্যমে ঈর্ষাপরায়ণতা পরিহার করে নিজের মনোজাগতিক শান্তি নিশ্চিত করতে ।
নিদারুণ সত্য কথা হলো মানুষ কিন্তু অপরিচিত বা অনেক দূরবর্তী কারও প্রতি ঈর্ষা অনুভব করে না, করে তার নিকটবর্তী পরিচিত মানুষের প্রতি । আরও সহজ করে বললে বাংলাদেশের কোনো সাধারণ মানুষ কিন্তু বিল গেটস, ইলন মাস্ক, জ্যাক ম্যা, ওয়ারেন বাফেট, স্টিভ জবস, মাইকেল জ্যাকসন, ম্যাডোনা, ম্যারাদোনা, মেসি, রোনালদো, পেলে, সক্রেটিস, শেক্সপিয়ার, এ্যারিস্টেটল, নিউটন, আইনস্টাইনের প্রতি ঈর্ষা অনুভব করে না ; বড়জোড় এরকম কারও কোনো কিছু পছন্দ না হলে স্বাভাবিক ক্রিটিসিজম করে মাত্র। মানুষ ঈর্ষা অনুভব করে তার আত্মীয়, প্রতিবেশী, বন্ধু, সহকর্মী ও পরিচিতজনদের প্রতি ।
বিষয়টি বোঝাতে আরেকটি খুবই বাস্তব উদাহরণ দেই । সকল বয়সের বাঙালি পাঠকমহলে হুমায়ুন আহমেদের অসম্ভব জনপ্রিয়তার কারণে তাঁর সমসাময়িক বাংলাদেশের অধিকাংশ কবি, লেখক, সাহিত্যিক, বোদ্ধাগণ তাঁকে কোনো মানসম্পন্ন লেখকই মনে করত না, তাঁকে সমাজের কাছে একজন সস্তা মানের লেখক হিসেবে উপস্থাপন করত ।
আর একটি বিষয় না বললেই না । ত্রিভুজ প্রেম থেকে কিংবা কারো নিজের পছন্দের ব্যক্তি তাকে অগ্রাহ্য করে অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হলে সেই তৃতীয় ব্যক্তির প্রতি যে ঈর্ষা মানুষের মনে জন্ম হয় তার উপর তো পৃথিবীতে হাজার হাজার গল্প, উপন্যাস, রুপকথা, নাটক, সিনেমা তৈরি হয়েছে, হচ্ছে, হবে । এই প্রেক্ষাপটটি অবশ্য একটু ভিন্ন।
আর একটি নির্মম সত্য হ’লো, কেউ কেউ এমন কিছু মানুষের প্রতিও এমন কিছু কারনে ঈর্ষান্বিত বোধ করে যার কারনে/মাধ্যমে সে এবং তার আশেপাশের মানুষজন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে, প্রবলভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ ক্রমাগতভাবে উপকৃত হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে।
এইজন্যই ওই চরম ও চিরন্তন সত্য প্রবাদটি দীর্ঘকাল যাবৎ প্রচলিত আছে, ‘Man is by born jealous’, মানুষ জন্মগতভাবেই ঈর্ষাপ্রবণ ।
তবে এটা কি কেবল মানুষের ক্ষেত্রেই সত্য ? না-কি জগতের সকল প্রানীকূলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য সেই বিষয়টি বোধহয় এখনো পুরোপুরি অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেছে ।
-আনোয়ার পারভেজ শেফীন
চেয়ারম্যান, পাওয়ারব্রীজ গ্রুপ
#ঈর্ষাপরায়ণতা
#Jealousy
#Self_Realisation
#Self_Control
#Mental_Health
#Emotion
#Feelings_of_Human_Being
#Written_by_Shefin
#Anwar_Pervez_Shefin

